logo

ভাটির পুরুষ-কথা

শাকুর মজিদ

বাউল শাহ আবদুল করিমের জীবন ও দর্শন নিয়ে মঞ্চনাটক ‘মহাজনের নাও’ লিখেছেন শাকুর মজিদ। বাউল শাহ আবদুল করিমের জীবন নিয়ে নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘ভাটির পুরুষ’। বাউল শাহ আবদুল করিমের জীবন নিয়ে তথ্যচিত্র বানাতে গিয়ে শাকুর মজিদ দীর্ঘ ছয় বছরে যেসব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, সেসব অভিজ্ঞতার আলোকে লিখেছেন স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘ভাটির পুরুষ-কথা’।

bhatir-purush-kothaবাউল শাহ আবদুল করিমের ওপর প্রামাণ্যচিত্র বানানোর জন্য শাকুর মজিদ ২০০৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে প্রায় দশবার বাউল শাহ আবদুল করিমের মুখোমুখি হন। এসব করতে গিয়ে হাওরের ঢেউ-খেলানো জল, কালনী নদী, নৌকাবাইচ, ধলমেলা, উজানধলের ওরস, সিলেটের প্রত্যন্ত উপশহর দিরাই ও বাউল শাহ আবদুল করিমের শিষ্যদের সঙ্গে তিনি নানাভাবে মিশেছেন। বাউল শাহ আবদুল করিমের ওপর যাদের আগ্রহ রয়েছে, যারা তাঁর গান নিয়ে কাজ করেছেন, গবেষণা করেছেন, নানাভাবে নানান পর্যায়ে যারা শাহ আবদুল করিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের সঙ্গে নানান পর্যায়ে নানাভাবে শাকুর মজিদ কথা বলেছেন। এসব করতে গিয়ে নগর-বাউল শাকুর মজিদ যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, সেসব স্মৃতিচারণই অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায়, মনের মমতা মিশিয়ে তুলে ধরেছেন তাঁর নতুন স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটিতে।

লোকায়ত সংস্কৃতি ও আধুনিক সংস্কৃতির যুগসন্ধিক্ষণের গীতিকবি বাউল শাহ আবদুল করিম। ১৩২২ সালের ফাল্পুন মাসের প্রথম মঙ্গলবার (১৯১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে) দিরাই থানার উজানধল গ্রামে বাউল শাহ আবদুল করিমের জন্ম। খুব ছোটবেলায় মুদিদোকানের অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবনের শুরু। তারপর মহাজনের বাড়িতে রাখালের চাকরি। গানের নেশায় একসময় গান শেখার জন্য ওস্তাদের কাছে গমন। তারপর শাহ আবদুল করিমের জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি এলেও তিনি গানসাধন ছাড়েননি। ঈদের জামাত থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া, মসজিদ থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা, এক পর্যায়ে গানের কারণেই তাঁকে গ্রামছাড়া করার পরও শাহ আবদুল করিম জীবনে কখনোই গান ছাড়েননি। আবার গ্রামবাসীর উদ্যোগে গানের লড়াইয়ে নিজেদের গ্রামকে জেতানোর মতলব থেকেই শাহ আবদুল করিমকে সেই গ্রামবাসীই ডেকে আনেন। শাহ আবদুল করিম সন্ন্যাস-জীবন যাপন করতেন। বাড়ি থেকে একবার বের হলে তিন মাস আর কোনো খোঁজ থাকত না। সন্ন্যাস-জীবনের মধ্যেও তাঁর সংসার ছিল। শাকুর মজিদের গবেষণায় উঠে এসেছে শাহ আবদুল করিমের মোট গানের সংখ্যা ৪৮০টি।

দীর্ঘ ছয় বছরে বাউল শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে নানাভাবে গবেষণা করার যে-অভিজ্ঞতা শাকুর মজিদ অত্যন্ত ধৈর্য নিয়ে করেছেন, সেখানে কিছু কিছু অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনার মুখোমুখিও তাঁকে হতে হয়েছে। তবু একজন নির্ভীক অভিযাত্রীর মতো তিনি যে অসাধ্য সাধন করেছেন, সে-অভিজ্ঞতার সরল বয়ান ‘ভাটির পুরুষ-কথা’। বইটিতে শাকুর মজিদ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের নানান পর্যায়ের অনেক দুর্লভ ছবিও ব্যবহার করেছেন। যারা বাউল শাহ আবদুল করিম সম্পর্কে জানতে চান, এই বইটি তাদের সংগ্রহ করতেই হবে।

rokomari

 

Leave a Reply