বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গসংগীত চর্চা ও গুণীজন
বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গসংগীত চর্চা ও গুণীজন। বইটি সম্পাদনা করেছেন শামীম আমিনুর রহমান। আর সম্পাদনায় সহযোগিতা করেছেন ফিরোজ আহমেদ ইকবাল ও আব্দুল্লাহেল বাকি। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আকরাম রতন।
বাংলাদেশে উচ্চাঙ্গসংগীতের ঐতিহ্য, তার প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের গভীরে প্রোথিত। আদি যুগ থেকেই এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ এ ঐতিহ্যকে করেছেন সমৃদ্ধ। কালান্তরে সেই ঐতিহ্য আজ বিস্মৃতপ্রায়। হারিয়ে যাওয়া সেই ইতিহাসকে খুঁজে ফেরার একটি ছোট্ট প্রচেষ্টা হচ্ছে এই বইটি। যুগে যুগে যে গানের সারথিগণ উচ্চাঙ্গসংগীতকে করেছেন সমৃদ্ধ, তাদের অনেককেই খুঁজে সাধারণের জন্য সংক্ষিপ্তাকারে বইটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর জানা যায়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতে আরো সংগীত-গুণীর নাম এবং লেখা প্রকাশ করা হবে।
উচ্চাঙ্গসংগীতের প্রচার ও প্রসারে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নানা উদ্যোগের একটি হচ্ছে উচ্চাঙ্গসংগীত-বিষয়ক কর্মশালা। তেমনই একটি উচ্চাঙ্গসংগীত-বিষয়ক কর্মশালার কিছু নির্বাচিত বক্তৃতা বইটিতে সংযোজন করা হয়েছে। আর ২০১২ ও ২০১৩ সালে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে উপমহাদেশের বিখ্যাত সব গুণী শিল্পী নিয়ে যে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব হয়েছিল তার কথা আমাদের প্রায় সবারই জানা। সেই উৎসব প্রতিবছরই হয়ে চলেছে। উল্লিখিত ওই দুই বছরে একটি করে স্মারক-পুস্তিকাও বেরিয়েছিল, যেখানে বিস্মৃতপ্রায় গুণী শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং উচ্চাঙ্গসংগীতের চর্চা ও প্রসারের বিষয়ে কিছু লেখা সংযোজিত হয়েছিল। সেসব লেখা ও উচ্চাঙ্গসংগীত কর্মশালার বক্তৃতামালা সংযোজিত হয়েই এই বইটি ।
বইটির শুরুতেই উচ্চাঙ্গসংগীত বিস্তারে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ভাবনা ও প্রচেষ্টা সম্পর্কে একটা লেখা আমরা পেয়ে যাই।এটি লিখেছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও স্থপতি লুভা নাহিদ চৌধুরী।
তারপর অনেকগুলি অধ্যায়ে আরো অনেক বিশিষ্ট লেখক ও সংগীত বিশেষজ্ঞের সংগীতবিষয়ক অনেক পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ ও রচনা পাই। যেমন বাংলাদেশের সংগীত, রাগ সংগীতে বাংলাদেশের অবদান, সংগীতের ইতিহাস প্রসঙ্গে লেখা। তারপর হাজার বছরের বাংলা গান, সংগীত ও নন্দনতত্ত্ব, বাংলা গানের সঙ্গে রাগসংগীতের সম্পর্ক। এরপরে বন্দিশ ঘরানা, প্রকারভেদ ও গুরুত্ব। খেয়াল ও ধ্রুপদ ঘরানা, বিবর্তন ও পূর্ণ গায়কির বর্ণনা, অলংকর ইত্যাদি। আমরা জানতে পারি কর্ণাটকি সংগীত সম্পর্কে। তারপর বাদ্যযন্ত্র-পরিচিতি, তার উদ্ভব ও বিকাশসহ ঘরানা এবং বাদনশৈলী। তারপর প্রাচ্য সংগীত ও ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যালের সঙ্গে পরিচিতিমূলক রচনা। এরপরে কত্থক নৃত্য ও ভরতনাট্যম সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা। সবশেষে এই অঞ্চলের সংগীতজ্ঞদের জীবনী।
